রংপুর প্রতিনিধি – আল আমিন ইসলাম:  পুরো ভারতবর্ষের মধ্যে এই ইটাকুমারী এলাকাটি উন্নত শিক্ষা ও সংস্কৃতিময় এলাকা ছিল। তাই এটিকে অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় নবদ্বীপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ইটাকুমারীর জমিদার ছিলেন রাজা রঘুনাথ চন্দ্র রায় (যিনি রাজা শিব চন্দ্র রায়ের পিতা)। তিনি এই জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। তার ছেলে শিব চন্দ্র রায় এই জমিদার বাড়ি থেকেই রংপুরের কৃষক প্রজা বিদ্রোহ পরিচালনা করেন। তার সাথে একই উপজেলার মন্থনা জমিদার বাড়ির জমিদার দেবী চৌধুরানীও উক্ত কৃষক প্রজা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা উভয়ই ব্রিটিশ সরকারের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। ১৭৮৩ সালে রংপুরের ঐতিহাসিক প্রজা বিদ্রোহ ইটাকুমারী রাজা শিব চন্দ্রের বাড়ী থেকে সংঘটিত হয়েছিল। ১৭৮৩ সালে বৃটিশ বিরোধী শীব চন্দ্র ও দেবী চৌধুরানী প্রজা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে দেবী সিংহের অত্যাচার থেকে রংপুরের কৃষক প্রজাদের রক্ষা করেছিলেন। ইটাকুমারী জমিদারবাড়ী ছিলো তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় নবদ্বীপ। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বাতিঘর হিসেবে ইটাকুমারীর খ্যাতি গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল। এখানে রাজ শীব চন্দ্রের নামে স্বনামধন্য একটি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও জমিদার বাড়ি, মন্দির, বিশালাকার পুকুর ও অন্যান্য প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন রয়েছে।