এমকে আলম চৌধুরী, চট্রগ্রাম ব্যুরোঃ

কক্সবাজারে উখিয়া টেকনাফে ৩২টি রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত সাড়ে ১২লাখ শরনার্থী এখন ১০টি সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে জিম্মি হয়ে ভয় ও আতংকে দিন কালাতিপাত করছে। সন্ত্রাসী এ গ্রুপগুলো প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়,অপহরন গুম হত্যাসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ডগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান এসমস্ত সন্ত্রাসীদের আটক এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে এরা আবারো ফিরে এসে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) আরাকান রোহিঙ্গা ফ্রন্ট(আরিফ) ও আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন(আরসা) সহ আরো ৬/৭টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ এই অপতৎপরতায় সরাসরি ভাবে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রোহিংগা শিবির গুলো এখন সন্ত্রাসী দের অভয়ারন্যে পরিণত হয়েছে। এরমধ্যে আরসা সক্রিয় রয়েছে উখিয়া বালুখালী পালংখালী ও হোয়াইক্যং শিবিরে। আরএসও নিয়ন্ত্রন করছে জামতলি,তাজনিমারখোলা, উইংচিপ্রাং। এ ছাড়াও বাকি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে নিয়ন্ত্রন করছে নবীহোছন,মাষ্টার মুন্না,পুঁতিয়া, খালেক সালমানশাহ,জাবু ও খালেক গ্রুপ। এদের অপরাধ কর্মকান্ডে সাধারণ রোহিঙ্গা নাগরিকরা অতিষ্ঠ হয়ে শিবির ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন লোকালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দল ভারী করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন তুমব্রু,ও ঘুমধুম এলাকাজুড়ে এদের আধিপত্য বিস্তার রয়েছে। এর ফলে শিবির গুলোতে মারাত্মকভাবে নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুত্রে প্রকাশ গত ২০২১ সালে শিবির গুলোতে ২২টি হত্যাকান্ড ছাড়াও চুরি ডাকাতি অপহরন সংঘটিত হয়। ২০২২ সালে হত্যাকান্ড বেড়ে দাড়াঁয় ৩২টি। গোলাগুলির ঘটনা সংঘটিত হয় ৭৭টি।এ ছাড়াও শিবিরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায়ও এসকল সন্ত্রাসী গ্রুপের হাত রয়েছে অভিযোগ পাওয়া যায়। যার সংখ্যা প্রায় ২২২টি। এর পাশাপাশি রয়েছে এইডস আতংক। শিবিরে এ এ রিপোর্ট লেখা পর্য্যন্ত আক্রান্ত হবার সংখ্যা দাড়িঁয়েছে ৭১০ জন। তারমধ্যে রোহিঙ্গার সংখ্যাই হচ্ছে ৬১২জন। যার মধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে ৬৫ জন। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দের এ অপতৎপরতায় প্রত্যাবাসন কার্যক্রম চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশংকা দেখা দিয়েছে। কারন এ সন্ত্রাসী গ্রুপ কোন ভাবেই মিয়ানমার ফিরে যেতে রাজি নয়। এবং কেহ আগ্রহ দেখালে তাকে গুম অপহরন বা হত্যা করা হচ্ছে। এদের সাথে স্হাণীয় সন্ত্রাসীরাও যোগ দিয়ে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী অপরাধ দমনে মারাত্মকভাবে হিমশিম খাচ্ছে।