এ এম রিয়াজ কামাল হিরণ, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

বিভিন্ন ধরনের বাতব্যথা, প্যারালাইসিস, স্ট্রোকজনিত হ্যামিপ্লেজিয়া, বয়সজনিত ও হাড় ক্ষয়জনিত ব্যথা ও শারীরিকভাবে অক্ষম, জিবিএস, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, আঘাত ও স্পোর্টস ইনজুরিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অতীব জরুরী। এসব রোগীদের জন্য অনেকক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ)চট্রগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।এর আগে এই দিবসটি উৎযাপন উপলক্ষে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যা লী বের করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালসহ ২০০টিরও অধিক ফিজিওথেরাপি সেন্টার রয়েছে।তবে সব মিলিয়ে ইন্টার্নশীপসহ পাঁচ বছর মেয়াদী ব্যচেলর অব সাইন্স ইন ফিজিওথেরাপি(বিপিটি)ডিগ্রিধারী ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন কেবল ৩০ জন।তাই অনেক ফিজিওথেরাপি সেন্টারে ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্ট দিয়ে চলছে অপচিকিৎসা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগীরা’।
বক্তারা আরো বলেন, ‘অনেক ফিজিওথেরাপি সেন্টারেই বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮ এর নির্দেশনা মানা হচ্ছেনা। এমন স্পর্শকাতর চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে অনেকেই। অনেক সেন্টারে ডিপ্লোমা পাস করে বিপিটি লিখে পরিচয় গোপন করে নামের আগে ফিজিও লিখে রোগীদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। আবার বিপিটি (ইন কোর্স) লিখে নিজের পরিচয় গোপন করছেন যা বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন আইনের ধারা ২১ লংঘন হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই নিজেকে ফিজিওথেরাপিস্ট, টেকনিশিয়ান কিংবা ফিজিও পরিচয় দিয়ে রোগীদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দিচ্ছেন, যা দন্ডনীয় অপরাধ। এসব ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্টদের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা’।ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্টদের কাছে চিকিৎসা না নেয়ার জন্য রোগীদের প্রতি আহবান জানান তারা। সেইসঙ্গে এসব ভুয়া ফিজিওথেরাপিস্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান বক্তারা।
বিপিএ চট্রগ্রাম বিভাগের আহবায়ক এবং চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. মো. কামরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্রগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সেক্রেটারি দেব দুলাল ভৌমিক এবং লেখক ও গবেষক খনরঞ্জন রায়। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের পরিচালক প্রফেসর ড. বশির আহমেদ, রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮২ গভর্নর ২০১৭-১৮ পিপি মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পিপি রাশেদুল আমিন, রোটারি ক্লাব অফ চিটাগং সাগরিকার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বাবুল, সিপিআরসি’র পরিচালক এম এ জলিল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ‘সিআরপি চট্রগ্রাম এর সিএম ডা. খলিলুর রহমান, চট্রগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. কামরুল হাসান, চট্রগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. সাদেকুর রহমান, প্রয়াস চট্রগ্রামের সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. জাহেদুল ইসলাম, ডা. প্রাঞ্জল বড়ুয়া, ডা. মনির, লায়ন্স হাসপাতালের ডা. সুজন, বিসিবি’র ফিজিও ডা. শিমুল, ডা. ইমরান, ডা. তাসলিমা ও ডা. রফিক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি ৮ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে বিশ্বে প্রতিবছর ৮ সেপ্টেম্বর একযোগে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘অস্টিওআর্থ্র্রাইটিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি’।