মোঃ মিঠু মিয়া,গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে।সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চিরভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ততকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস।এই অনুষ্ঠানে ঘোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর তিন সপ্তাহ পর বৈদ্যনাথতলা নামে পরিচিত ঐ বিশাল আমবাগান এলাকাকেই পরে ‘মুজিবনগর’ নাম দিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল।বাংলাদেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করতে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।সেই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করে স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। এই দিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও অনুমোদন হয়। আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ দিনাজপুরের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। সেদিনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও শপথ অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ হয়েছিল মেহেরপুর ও মুজিবনগরের একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর সহযোগিতায়। যাত্রা শুরু করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বিপ্লবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আনুষ্ঠানিক শপথ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও মুক্তিবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান এর সভাপতিত্বে ” ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা “শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, জেলা আ.লীগ সহসভাপতি আবু বকর প্রধান,উপজেলা আ.লীগ সভাপতি উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন,সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিবুল হাসান মুকিত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম নকিবুল হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. ফাতেমা কাওসার মিশু,পলাশবাড়ী এসএম মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারি,থানার ওসি তদন্ত লাইছুর রহমান, পলাশবাড়ী পিয়ারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ মাহবুবুর রহমান মিল্টন , পলাশবাড়ী প্রেসক্লাব সভাপতি ফজলুল হক দুদু, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রতন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। এছাড়াও এসময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানগণসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।