মোহাম্মদ জাকির হোসেন,বরিশাল জেলা প্রতিনিধিঃ

বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ বস্তা চাল সহ এক আওয়ামী লীগ নেতার গুদাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সিলগালা করেছেন ট্যাগ অফিসার মোক্তার হোসেন।

গত ৭/৯/২০২৩ ইং বৃহস্পতিবার উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মনির শরীফের গুদাম সিলগালা করা হয়।
কিন্তুু দীর্ঘ সময় চলে গেলেও কর্তৃপক্ষ আসল তথ্য উদঘাটন করা সহ সংশ্লিষ্ট চাল ডিলারকে প্রয়োজনীয় শাস্তি মূলক ব্যবস্হা না নেওয়ার এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্হানীয় একাধিক সূএে জানা যায় উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের মুদিঘাট এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা মনির শরীফের গুদামে চাল মজুত দেখে স্থানীয় লোকজন ইউএনওকে খবর দেয়। ইউএনও সজল চন্দ্র শীল সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার কলসকাঠী ইউনিয়ন তহশিলদার মোক্তার হোসেনকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চালসহ গুদাম সিলঢালা করার নির্দেশ দেন। ট্যাগ অফিসার তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ বস্তা নুরজাহান ব্রান্ডের প্লাস্টিকের ব্যাগ ভর্তি চালসহ গুদামটি সিলগালা করেন।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, কলসকাঠী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের স্বামী ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মনির শরীফ দীর্ঘদিন থেকেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কার্ড প্রতি ৩০ কেজির স্থলে ২৪-২৫ কেজি করে দিয়ে বাকি চাল চুরি করে নুরজাহান কোম্পানির খালি বস্তায় ভর্তি করে তার চাচা শ্বশুর কবিরের মুদি দোকানে বেশি মূল্যে বিক্রি করে আসছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় লোকজন বস্তা ভর্তি চাল দেখে প্রশাসনকে জানালে তারা ৩০ বস্তা চালসহ গুদাম সিলগালা করেন।

ট্যাগ অফিসার মোক্তার হোসেন জানান, ডিলার মনির শরীফের দায়িত্বে ৬০২ টি কার্ড রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে কার্ড প্রতি ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ পেয়ে তিনি ৩০ বস্তা নুরজাহান নামের প্লাস্টিক ব্যাগ ভর্তি এবং ২০ বস্তা সালাম সুপার চালসহ একটি গুদাম সিলগালা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল ৩০ বস্তা চালসহ আওয়ামীলীগ নেতা মনির শরীফের গুদাম সিলগালা করার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বস্তা ভর্তি চাল সরকারি কিনা তা পরীক্ষা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তার ডিলার বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিন্তুু দীর্ঘ সময় চলে গেলেও কর্তৃপক্ষ আসল তথ্য উদঘাটনে ব্যর্থ হওয়ার বহাল তবিয়তেই রয়েছে চাল ডিলারের কারসাজির কুট কৌশল।
স্হানীয় সচেতন মহল মনে করেন খুব দ্রুত তদন্ত করে চাল ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হউক।