সবুজ শিকদার,জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাটঃ

বাগেরহাটের চিতলমারী জুড়ে লুডু ও কেরাম খেলা এখন জুয়ায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ে যে লুডু বোর্ড ছিল কাগজে তৈরি, এখন তা মোবাইলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এ মোবাইলের মাধ্যমেই চলছে উপজেলার অলি-গলিসহ বিভিন্ন প্রান্তে এ ডিজিটাল জুয়া চলছে দিন-রাত। স্মার্টফোনে লুডু কিং নামে একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করে সর্বোচ্চ আটজন মিলে এ খেলা খেলতে পারে। খেলার ধরন রয়েছে দুই প্রকার। একটি অনলাইনের মাধ্যমে অপরটি একটি মোবাইলে একইসঙ্গে বসে খেলা যায়। তবে অনলাইন ছাড়া একসঙ্গে চারজনের খেলার প্রবনতা বেশি দেখা গেছে। চারজন মিলে খেললে এক একটি গেইম শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। প্রতি গেমে বাজি ধরা হয় ১০০-৫০০ টাকা। কোন কোন ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ আরো বেশিও হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এক জন  বলেন, তিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক। এক সময় নিয়মিত মোবাইল ফোনে লুডু কিং ও কেরাম সফটওয়্যারের মাধ্যমে জুয়া খেলতেন। খেলতে খেলতে এমন নেশা হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত আয়ের উৎস ভ্যানটিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে দেনার কারনে। এখন তিনি বেকার।

তিনি আরও জানান,উপজেলার চায়ের দোকান, মুদি দোকানের সামনে গেলেলেই দেখা যায় এ জুয়ার আসর জমজমাট। এসব জায়গায় যারা লুডুর মাধ্যমে জুয়া খেলে তারা একটি মোবাইলের মাধ্যমে একসঙ্গে বসে। বেশি ভাগই হলো তরুণ এবং যুবকরা।এতে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিপথগামী হয়ে পড়ছে তরুণ এবং কিশোরেরা। শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে তাঁরা জুয়ার টাকা জোগাড় করতে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।

উপজেলার কুনিয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দারা বলেন, আমাদের যুবকরা এখন ধংশের পথে। কারন মোবাইল ফোনে এখন কথা হয় না। চলে জুয়া খেলার আড্ডা। আমাদের সন্তানরা লেখা পড়া বাদ দিয়ে বসে মোবাইলে জুয়ার আড্ডায়।

কলাতলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি আমজাদ শেখ বলেন, ‘এসব জুয়ারিরা যখন সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে, তখন তারা সামাজিক নানা প্রকার অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের জুয়া বন্ধ করার জন্য জরুরী ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার প্রসাশনের।’

ঘোলা জি বি ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, জুয়া খেলার কারণে এখন অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছে। ফলে তাঁরা সামাজিক নানা প্রকার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই এই ধরনের ডিজিটাল জুয়া বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। তবে খুব শিঘ্রই একটি অভিযান চালানো হবে ডিজিটাল জুয়ারিদের বিরুদ্ধে।এ ধরনের জুয়া খেলায় হাতে-নাতে কাউকে ধরতে পারলে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে পারিবারিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে অভিবাভকদের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসমত বলেন,এ ধরনের জুয়া খেলা আইনগত নিষেধ আছে।হাতেনাতে কাউকে ধরতে পারলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।তবে পারিবারিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।