সোহেল রানা, পীরগাছা (রংপুর):

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। একই সাথে ৭ দিন ব্যপাী কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে পরিষদের পক্ষ থেকে। সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী ও সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান তিস্তাঅববাহিকার কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, শত প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙিয়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠের লাখো মানুষের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে বলেছেন, ‘আমাদের তিস্তা মহাপরিকল্পনা আমরাই বাস্তবায়ন করবো। ’ তাঁর ঐতিহাসিক এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সূচিত হলো শতবঞ্চনায় নিস্পেষিত উত্তর জনপদের কোটি মানুষের স্বপ্ন যাত্রা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে খুবই স্পষ্ট ও ইতিবাচক ঘোষণা হিসেবে মূল্যয়ন করছে। ইতোমধ্যেই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সাথে সাথেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে। দুই মাসের মধ্যেই অর্থাৎ চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কাজের শুভ উদ্বোধন হবে। যা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা কবীর বিন আনোয়ার। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের শ্লোগান ছিল, ‘কোটি মানুষের স্বপ্ন তিস্তা মহাপরিকল্পনা, স্বপ্ন বুনেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, বাস্তবায়নে শুধুই আস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’ আমাদের দাবি ছিল পদ্মা সেতুর মতো নিজের টাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে স্পস্টভাবে ‘আমাদের তিস্তা মহাপরিকল্পনা আমরাই বাস্তবায়ন করবো’ ঘোষনায় আমাদের দাবির প্রতিফলন স্পস্ট হয়েছে। এরমাধ্যমে মূলত প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণার কথা বলেছেন। এই ঐতিহাসিক ঘোষনা দেয়ায় তিস্তাপাড়ের স্বপ্ন বোনা কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সাথে নেতৃবৃন্দ বলেন, এখন আমরা চাই একনেকে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে কাজ শুরু হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার উদ্বোধনের অপেক্ষায় এখন তিস্তাপাড়ের মানুষ। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিস্তার দুই তীরে ৭ দিন ব্যপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার বাদ জুমআ তিস্তা নদীর দুই তীর এবং জনপদের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিস্তার দুই তীরের সমস্ত উপজেলার সমস্ত লোকালয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা, আনন্দ আড্ডা, সর্বজনের আনন্দ সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে পরিষদের সকল স্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও তিস্তা অববাহিকার প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেস্টা রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষনা দেয়ায় রংপুর বিভাগের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষ আনন্দিত। কারণ এটা তাদের স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করবে। এখন দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। সেজন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা তড়িৎ গতিতে করতে হবে। তিনি বলেন, তিস্তাই মহাপরিকল্পনা রংপুর অঞ্চলের ভাগ্য পরিবর্তনের একটা বড় সুচক হিসেবে কাজ করবে।তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু করার দাবি জানান। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোনাজাত ও সকল কর্মসূচিতে স্বতস্ফুর্ত ভাবে অংশ গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন।