চিরন বিকাশ দেওয়ান,রাঙামাটি প্রতিনিধিঃমাসিক সমন্বয় সভায বিগত মাসে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত বলী অগ্রগতি ও চলতি মাসের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়, কিন্তু এবার রাঙামাটি জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় সেসব কিছুকে পাস কাটিয়ে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর,তাইতো সভার একেবারে শেষ প্রান্তে সকলের নিকট থেকে ৫ মিনিট সময় চেয়ে নেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, নিজেকে কিছুটা সামালে নিয়ে তিনি বলেন,২ বৎসর ৪ মাস আপনাদের সাথে সময় কাটিয়েছি,দেশের সর্ববৃহত্তর জেলা রাঙামাটির ৯১তম জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি,আমার রুমে অনার বোর্ডে দিকে থাকিয়ে আমি নিজে নিজে বেভেছি,এই বোর্ডে বহু লিজেন্টের নাম লিখা আছে, সেখানে আমার পাওয়াটা সৌভাগ্যের,তাদের তুলনাই আমি কিছুই না,এখানে এইচ টি ইমাম স্যারে নাম লেখা আছে, তিনি দেশের জন্য যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মত না,আমি হলে কি এমটা করতে পারতাম?তিনি বলেন,রাঙামাটির মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়,এই জেলা অন্তর জুরে থাকবে,আমি এখানে করতে গিয়ে কখনো কখনো খুবই শক্ত অবস্তানে গিয়েছি,সেটা আমার জন্য নয়,দেশের জন্য, আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র,এটা করতে আমি বাধ্য ছিলাম, ব্যক্তিগত ভাবে সেই বিষয়ে গুলো বিবেচনায় রাখিনি,দীর্ঘ সময় আপনারা আমার সার্রথী হয়ে ছিলেন, এই পথ চলার পথে একজন জেলা প্রশাসক হিসাবে আমাকে অনেক চিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, সেটা কারো পক্ষে আর কারো বিপক্ষে গিয়েছে, এখানে আমার কোন হাত ছিলনা,যাদের বিপক্ষে গিয়েছে তাদের আমার বলার কিছু নেই,রাস্ট্রের দায়িত্ব পালন করতে গেলে এমনটা হবেই,আমার স্থানে আপনি থাকলেও তাই করতেন,কারন জেলা প্রশাসকের দায়িত্বটা এমন,জেলা প্রশাসক আর বলেন,কাজ করতে গিয়ে আমাকে হইতো অনেক সময় খুব শক্ত আচরন করতে হয়েছে, সেটা আমার দায়িত্ব ছিল, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক এক নয়,আমি চেয়েছি ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন সহজ করতে পারি,সেভাবে কাজ করে গেছি,রাঙামাটির মানুষ খুবই আন্তরিক ও সহায়তা প্রবন,এখানে আমাকে সবাই খুবই আন্তরিকতার সাথে আপন করে নিয়েছে,যা আমার ভাবনায় ছিল না,এসাড়াও আপনারা জানেন এখানে থাকাব্যস্থায় আমার একটা পারিবারিক বিপদ হয়েছে, আমার বাবাকে হারিয়েছি,তাই আমি চাইলেও রাঙামাটি মানুষদের ভূলবোনা,তিনি বলেন কোন মানুষ পারফেক্ট নয়,সবার কোন না কোন ভূল ভ্রন্ঠি থাকে,আমার বেলাও তাই,তবে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চটা দিয়ে রাঙামাটি মানুষের সেবা দিতে,অনলাইন মাধ্যমে সেবা প্রধান করেছি,যাতে সাধারন মানুষের ভুগান্তি না হয়,সেটাই ছিল আমার কাছে মূখ্য বিষয়, আপনারা আমাকে সব সময় সহয়তা করে গেলেন বলেই যা করেছি সুন্দরভাবে করতে পেরেছি, সেজন্য আমি আপনাদের কাজে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।তিনি আর বলেন এখানকার রাজনৈতিক পরিবেশটাও খুবই ভাল,বিশেষ করে আমাদের এম পি মহোদয় অত্যন্ত জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি,তিনি চাকিরীজিবিদের সর্ম্মান দিতে জানেন,একথা আপনারাও এক বাক্যে স্বীকার করবেন,তারঁ কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে,তিনি বলেন আমি চেয়েছিলাম যাতে বৃহস্পতিবার বদলীর আদেশ হয়,সেটা হয়েছে, ফলে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে পারলাম, আপনারা আমার জন্য দযা করবেন,আমি দুর থেকে দেখবো রাঙামাটির মানুষ ভালো আছে,সেটা হবে আমার কাছে পরম প্রাপ্তি,আমার নতুন পোষ্টিং হচ্ছে গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে, সেখানে উপসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করবো,মন থেকে বলছি, ঢাকায় গেলে অবশ্যই সবাই দেখা করবেন,আপনাদের জন্য আমার দুয়ার সব সময় খোলা থাকবে, আমাগী সপ্তাহে চলে যাবো, সবাই ভালো থাকবেন বিদায় রাঙামাটি বাসী।