উচ্চপ্রু মারমা,রাজস্হলী রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃপ্রবল বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার লংগদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয়, ইসলামপুর জামে মসজিদের অযুখানা সহ চন্দ্রঘোনা বাঙ্গালহালিয়া সড়কসহ উপজেলার অধিকাংশ আভ্যন্তরীণ সড়ক। সড়কের পাশের মাটি ও পাহাড় ধসের পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে এসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান চলাচল বিঘ্ন হচ্ছে। তবুও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে প্রতিদিন চলাচল করছে শতশত যানবাহন। রাঙামাটি সড়ক ও জনপথের তথ্যমতে, রাজস্থলীর প্রধান সড়ক ও আভ্যন্তরীণ ২টি সড়কের অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙ্গামাটির- রাজস্থলী -চন্দ্রঘোনা বাঙ্গালহালিয়া প্রধান সড়কের ৩৫ কিলোমিটারে অন্তত ১০ টি পয়েন্টে ভয়াবহ পাহাড় ধস হয়েছে। এতে করে যেকোন মূর্হুতেই সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারী বর্ষণে পাহাড় ধস ও সড়কের ওপর পানি জমে থাকায় এ ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী শতশত পরিবহন।আভ্যন্তরীণ সড়কের একই দশা। সঙ্কট সমাধানে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ চান এসব সড়কে চলাচলকারীরা। বাস চালক জসিম উদ্দিন বলেন, পাহাড়ের খাদের সাথে লাগানো সড়ক দিয়ে গাড়ী চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসর্তকতায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে। তার উপর রাস্তার পাশের মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রী নিয়ে এসব রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালানোর সময় ভয় করে।১০ চাকার ভারী ট্রাক চালক সেলিম উল্লাহ বলেন, পাহাড়ের বাঁকগুলোতে লেনে থেকে গাড়ি চালাতে হয়। যখন বৃষ্টি পড়ে তখন পাহাড়ের গা ঘেঁষে চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। এতদিন পাহাড় ধসের ঝুঁকি ছিল এখন নতুন করে সড়ক ধসে পড়ায় ভারী গাড়ী নিয়ে যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে।অটো রিক্সা চালক নবী বলেন, বাঙ্গালহালিয়া চন্দ্রঘোনা সড়কে আগে দুইটি গাড়ি চলাচল করতে পারলেও যেসব স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে এসব জায়গায় গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। একটি গাড়ি পারাপারের সময় অন্য গাড়িকে দাড়িয়ে থাকতে হয়। এতে সময় ও ঝুঁকি দুইয়ে বেড়েছে।সড়ক বিভাগের সহকারি ঠিকাদার এমদাদুল হক মিলন বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের পর পাহাড়ে ভূমি ধস ভয়াবহ হয়ে উঠে। গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ বন্ধ হলে সড়কের পাশে ভুমি ধস ও পাহাড় ভেঙ্গে পড়ার সঙ্কট আরও বাড়তে পারে। তাই জোড়াতালি দিয়ে সড়কগুলো মেরামত না করে স্থায়ী ও পরিকল্পনা মাফিক কাজ না করলে সামনের দিনে ভয়াবহ বিপর্যয় আসতে পারে।

এছাড়া প্রবল বর্ষণে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায়  আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে পাশ ঘেঁষে সাংবাদিক হারাধন কর্মকারের বাড়ির সামনে রাস্তার পানি চলাচলের ফলে যে হারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে দ্রুত ওয়াল নির্মাণ করা না গেলে রাজস্থলী উপজেলার সাথে যোগাযোগ  বিচ্ছিন্ন হতে পারে। অন্য দিকে মসজিদের একমাত্র অযুখানা ও  টয়লেট  পিছনের মাটি ধসে পরেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে মসজিদ ও ভাঙ্গন সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটি। এদিকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে শফিপুর মাদ্রাসা পাড়া মজিবুরের বিড়ি হইতে মুন্সীর ঘোনার চলাচল রাস্তায় একে বাড়ে ধসে গেছে। ঘিলাছড়ি মৈত্রী বিহারের পিছনে  ডাক্তার পাড়া খলিবুক ছড়ায় টেন স্টার ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন সমিতির মৎস্য চাষ প্রকল্পের গোধা বাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শিক্ষার হয়েছে সমিতির সদস্য- সদস্যরা। কুইক্যাছড়ি পাড়ার যাতায়াত সড়কে  পাশে বড় ধরনের পাহাড় ধসে পাড়াবাসি চলাচল করতে পারছেনা।লংগদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছায়ক কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টিতে লংগদু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাটি গুলো একে বাড়ে ধ্বসে গেছে । যার ফলে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের বারান্দায় ও লম্বা করে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে যে কোন সময় বিদ্যালয় ধসে যেতে পারে বলে মনে করেন প্রধান শিক্ষক। রাঙ্গামাটি  সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সবুজ চাকমা বলেন টানা বৃষ্টিতে সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চন্দ্রঘোনা – রাজস্থলী সড়কে বেশ কয়েকটি স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। তবে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ প্রকল্প হাতে নিবেন বলে জানান।