আল আমিন ইসলাম,রংপুর প্রতিনিধিঃবর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের দিকে তবুও আমন ধান রোপনে বৃষ্টি মিলল না উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের। বেশিরভাগ ধান চাষের জমি এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা এখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।যারা আমন রোপন করেছেন, তারা বলছেন গতবারের তুলনায় এবার পানি সেচের খরচ তিন গুণ বেড়ে গেল। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বেশি। অন্যদিকে কীটনাশক, সার এবং শ্রমিকের মূল্য বেড়ে গেছে।কৃষি বিভাগের দাবি, রংপুর জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জমি ফাকা পড়ে আছে।মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের বেশিরভাগ জমি ঘুরে দেখা হয়েছে। খাল বিলে কোন পানি নেই, যার ফলে এই বছর আমন ধান রোপণ নিয়ে হাজার হাজার কৃষক দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা বা একখণ্ড জমি চাষ উপযোগী করতে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা পানি সেচ প্রয়োজন। তবুও পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিনে প্রতিঘন্টা প্রায় ২০০ টাকা। তাই অনেকে নির্ভর হচ্ছে বৈদ্যুতিক পাম্পের উপর, যার ফলে লোডশেডিং আরো চরম অবস্থায় পৌঁছেছে।কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, রংপুর এবার ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে সম্পূরক সেচের মাধ্যমে এবং অন্যান্য উপায়ে চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘এবার ঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়াতে পানির অভাবে আমন রোপনে দেরি হচ্ছে। অনেকেই সম্পূরক সেচের মাধ্যমে রোপন শেষ করেছেন। এতে অনেক খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’ কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদেরকে বিচলিত না হয়ে বৃষ্টির জন্য ২-৪ দিন অপেক্ষা করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।অন্যদিকে, রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘গত বছরের জুন-জুলাইয়ের তুলনায় এবারে বৃষ্টি অনেক কম হচ্ছে। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে । তবে, মুষলধারে বৃষ্টি না হলেও আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে কোথাও কোথাও মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’